গণভোটকে কেন্দ্র করে ‘না’ ভোটের প্রচারণা—জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে কি বিএনপি?

 রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশ থেকে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠে আসছে। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের ‘না’ বাক্সে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।


যখন দেশের মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাস্তব পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের এমন অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ স্বাক্ষরের পর বিএনপির এই ভূমিকা অনেকের কাছে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বলে মনে হচ্ছে। সংস্কারের অঙ্গীকার করে পরে তা বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখানো জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়—এমন মন্তব্যও শোনা যাচ্ছে সচেতন নাগরিকদের মুখে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

এই প্রচারণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—

রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার

দেশের সাধারণ মানুষও মনে করছেন, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়—রাজনীতি, রাষ্ট্রচিন্তা এবং সাংস্কৃতিক আচরণে গভীর সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না।

এই বাস্তবতায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু একটি বাক্সে সিল দেওয়া নয়; এটি একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। আর সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো রাজনৈতিক তৎপরতা ইতিহাসে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান হিসেবেই চিহ্নিত হবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লার বিজয় সিলেট - ১

কুমিল্লার কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল

ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলাফল