নবম–দশম শ্রেণির বইয়ে কী শেখানো হচ্ছে আমাদের সন্তানদের?


 নবম ও দশম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবইয়ে কিছু বিষয় যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এই বয়সটা কোনো সাধারণ বয়স না—এটা চরিত্র গঠনের সময়, নৈতিকতা শেখার সময়, জীবনকে বোঝার সময়।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সংবেদনশীল বয়সে পড়ুয়াদের সামনে এমন কিছু ধারণা হাজির করা হচ্ছে, যেগুলো আমাদের সমাজ, পরিবার এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।

প্রশ্ন হলো—

এগুলো কি আদৌ স্কুলপাঠ্য বইয়ে থাকার কথা?

ধর্মীয় মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা?

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মনির্ভর। ইসলামসহ দেশের প্রধান ধর্মগুলো পরিবার, নৈতিকতা ও সামাজিক শালীনতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে পাঠ্যবইয়ে এমন বিষয় ঢোকানো মানে—কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া।

রাষ্ট্র কি তাহলে ধরে নিচ্ছে, ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার পথে বাধা?

নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই বিষয়গুলো চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট জবাব আমরা পাচ্ছি না।

সামাজিক বাস্তবতা কি বিবেচনায় আছে?

নবম–দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো মানসিকভাবে পূর্ণতা পায়নি। তারা যা পড়ে, তাই সত্য ধরে নেয়। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি লাইন তাদের চিন্তা, আচরণ ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে।

এই বয়সে বিতর্কিত সামাজিক ধারণা ঢুকিয়ে দিলে—

পরিবারে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে

অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়বে

সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াবে

এটা কোনো কল্পনা নয়—এটা বাস্তব।

আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম চাই, যারা নিজের সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে দ্বিধায় ভুগবে?

শিক্ষানীতি কি আদর্শিক পরীক্ষাগার হয়ে উঠছে?

এর আগেও আমরা দেখেছি, কিছু নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল—“সময় বদলেছে, ভাবনা বদলেছে”।

আজ আবার সেই একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষানীতি কোনো সরকারের একক সম্পত্তি না।

এটা পুরো জাতির ভবিষ্যৎ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লার বিজয় সিলেট - ১

কুমিল্লার কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল

ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলাফল