আপনাদের আমরা চিনে নিতেছি যারা বন্ধুর বেশে আশেপাশে ঘুরতেন।

 এই সময়ের সবচেয়ে ভালো অবদান হচ্ছে আমরা আমাদের সত্যিকারের এলাই কে এইটা বুঝতে পারবো। এইটা আমাদের দুঃসময়। 


দুঃসময় একটা ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ। আপনাদের আমরা চিনে নিতেছি যারা বন্ধুর বেশে আশেপাশে ঘুরতেন।


আমাদের সবচেয়ে বড় বিজয় আমরা ৩৫% মানুষের ভোট পাইছি। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়াও এতো ভোট পান নাই। আমরাই আগামীর গভর্মেন্ট ইন ওয়েটিং। আমরা সরকার গঠন করতে পারি নাই। অনেক বাধা ছিলো, কারচুপি হইছে, আমাদের এজেন্টদের বাইর করে দেয়া হইছে, আমাদের নারী কর্মীদের ক্যাম্পেইন করতে দেয়া হয় নাই, প্রশাসন, ডিপ স্টেইট, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিরুদ্ধে ছিলো। সেইটা উৎরায়ে ৩৫% ভোট সিকিউর করাটা হেলাফেলার কাজ না। 


বিএনপির ভোট ৪৯%।  


বিএনপির এই ভোটের মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের ভোট পুরাটাই, কমসে কম ১৫% ভোট -মানে ১০% হিন্দু ভোট আর ৫% মুসলমান আওয়ামী লিগার। এই ১৫% বাদ দেন তাইলে বিএনপির ভোট দাঁড়ায় ৩৪% অর্থাৎ আমাদের চাইতে ১% কম। বিএনপির ভোট বাড়ে নাই। আমাদের ভোট বাড়ছে বহুগুণ। 


তাইলে কি আওয়ামী লীগকে ভোটে আসতে দেয়া উচিৎ ছিলো? 


উত্তর না। 


আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দিলেও তারা প্রতীকীভাবে নির্বাচনে থাকতো। ভোটটা মুলত বিএনপিকেই দিতো. জামায়াতকে ঠেকানোর জন্য এইটাই তার রাস্তা হতো। 


আমি আজকের এপিসোডে হিসাব করে দেখাইছি আওয়ামী লীগের স্টিক্ট্র কোর সিট মানে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ এর চার নির্বাচনের মধ্যে কম করে হলেও তিনটা নির্বাচনে জিতছে আওয়ামী লীগ। সেই সিটগুলা বিএনপি পাইছে পুরাটা। আওয়ামী লীগের সফট কোর সিট মানে ১৯৯১-২০০৮ এই চারটা নির্বাচনের মধ্যে যেই আসনগুলায় আওয়ামী লীগ অন্তত দুইটা জিতছে সেইটার প্রায় পুরাটা নিছে বিএনপি। দুই-তিনটা মাত্র জামায়াত নিছে এই সফট কোরের। বিএনপি জিতছে মুলত আওয়ামী ভোটে।


কিন্তু ইন্টারেস্টিং টুইস্ট হচ্ছে যে বিএনপি নিজের স্ট্রিক্ট কোর সিট জামায়াত আর এনসিপির কাছে হারাইছে। মানে বিএনপির ভোটারেরা জামাত এনসিপির দিকে শিফট হইতেছে। আমাদের নেক্সট ইলেকশনে এটা মাথায় রাখতে হবে আওয়ামী লীগের এবং হিন্দুদের ভোট বিএনপি পাবে।


আগামী ইলেকশনে জিততে হলে বিএনপির হার্ডকোর ন্যাশনালিস্ট ভোট টানতে হবে যার অন্তত পাচ ছয় পার্সেন্ট আমাদের দিকে। আর নিজস্ব ইলেকশন মেশিনারি ঠিক করতে হবে। তিন নাম্বার এই পাচ বছর ডিপ স্টেইট আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের রিব্রান্ড করতে হবে। 


এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি আর ডিপ স্টেট কি আমাদের এই কাজ করতে দেবে? তাদের প্লান জামাত এনসিপিকে হোল সেল মা / ইর দিয়ে মাঠ ছাড়া করা।  আর এইটা করতে গেলে আরেকটা অভ্যুত্থান হবে। 


আমাদের ৩৫% স্পিরিটেড ভোট এইটা টেকা দিয়ে কেনা ভোট না। এইটা কারচুপির ভোট না। এরা রিয়েল মানুষ। এদেরকে থামায়ে রাখা সম্ভব না। আমাদের আজাদীর স্বপ্ন মুছে দিতে পারবে না কেউ। 


রাইট স্ট্রাটেজি নিয়া মাঠে থাকলে আমরা আরো শক্তি অর্জন করবো। রাইট স্ট্রাটেজি কি হইতে পারে, সেইটার আলাপ আগামী পর্বে। 


ইনকিলাব জিন্দাবাদ।


আজাদি জিন্দাবাদ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আলহামদুলিল্লাহ দাঁড়িপাল্লার বিজয় সিলেট - ১

কুমিল্লার কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফলাফল

ময়মনসিংহ–১০ (গফরগাঁও) কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফলাফল